The most auspicious Buddhist religious festival “Sacred Buddha Purnima” will be Celebrated on May 25, 2014 .

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান ডক্টর করূণানন্দ মহাথেরোর
বাংলাদেশে বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর এই হালেই যেসব হামলা হ’য়েছে – অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে রামুতে/উখিয়ায় , তা নিয়ে আমরা কথা বলি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলবর্তি ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের বোধি বিহারের অধ্যক্ষ ডক্টর করূণানন্দ মহাথেরোর সঙ্গে । পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ না করে প্রকৃত দোষিদের খুঁজে বের করে আইনী ব্যবস্থা প্রয়োগের আহ্বান জানান ডক্টর মহাথেরো । তিনি শান্তি কায়মের সুপারিশ করেন – সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান । ওয়াশিংটন স্টুডিও থেকে তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সরকার কবীরূদ্দীন ।

bangladesh buddhists

.

পূজনীয় মহাসংঘ, মাননীয় রাষ্ট্রি্য় প্রতিনিধিবৃন্দ, সম্মানিত বক্তাগণ, সুধী-মন্ডলী, ভাই-বোনেরা, আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। মহান জাতিসংঘের এই সাধারণ সম্মেলনে তথাগত বুদ্ধের ২৬০০ তম সম্বুদ্ধত্ব জয়ন্তীতে আমার কিছু কথায় বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের সু্যোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে আনন্দিত । এই জন্যে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই জাতিসংঘস্থ শ্রিলংকার সন্মানিত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্টদূত মি. পালিথ কোহোনা মহোদয়কে । বাংলাদেশী আমেরিকান বৌদ্ধদের পক্ষে আমি ‘বাংলাদেশী বৌদ্ধ প্রেক্ষিতে শান্তি’ সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। প্রিয় সুধী-জন, ভাই-বোনেরা—আপনারা জানেন, শাক্যমুনী বুদ্ধ সম্বোধি লাভের পর ৪৫ বছর ধরে ভারতের বিহারসহ এর পার্শ্ববর্তী রাজ্যে শান্তির বাণী প্রচার করেন । বঙ্গ নামে পরিচিত বাংলাদেশ তখন ধন্য হয় সেই মহাবাণীর মঙ্গলময় ছো্ঁয়ায় । তথাগত বুদ্ধের বুদ্ধত্ব লাভের পুণ্যময় স্থান বোধগয়ার পার্শ্ববর্তী জনগোষ্ঠীর সাথে বাংলাদেশী বৌদ্ধদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে । পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সংযুক্ত সেই ভারতবর্ষ হতে । অতি সম্প্রতি বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে আমেরিকায়। আপনারা জানেন,বাংলাদেশী বৌদ্ধদের নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কৃতি আছে । বার্মা, শ্রিলংকা ও থাই বৌদ্ধ ধর্ম প্রভাবিত হলেও পালি ঐতিহ্যের এই সংস্কৃতি মনোরম বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ । শান্তির মূল উৎস হলো তাঁদের স্বধর্ম, যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম । খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বিখ্যাত মৌর্য সম্রাট অশোকের সময়ে বৌদ্ধ ধর্ম বিদ্যমান ছিল বাংলাদেশের উত্তর বঙ্গে। বাংলাদেশ উন্নত বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শান্তি উৎসের পুণ্যভূমি ছিল খ্রীষ্টিয় ছয় শতক হতে দ্বাদশ শতকে- এই কথার প্রমাণ পাই- প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণে এবং খ্রীষ্টিয় পঞ্চম ও সপ্তম শতকে বাংলাদেশ-ভারত ভ্রমণকারী চৈনিক পরিব্রাজকদের ভ্রমণ বৃত্তান্তে। খ্যাতিমান কয়েক জন বৌদ্ধ রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় তখন প্রতিষ্ঠিত হয় প্রসিদ্ধ বিহার কৈন্দ্রিক শান্তির বহু মহানিকেতন, যেখানে গবেষকগণ মনের উৎকর্ষ সাধনে, অধ্যয়ণ, অধ্যাপনা কিংবা লিখায় স্বদেশ ও বিদেশে প্রচার করতেন শান্তির অমোঘ বাণী। বাংলাদেশের এক মহান সন্তান অতীশ দীপংকর খ্রীষ্টিয় নবম শতকে তিব্বতী রাজার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ হতে শান্তির বাণী নিয়ে যান তিব্বতীয়দের কাছে । তাই, তিব্বতীয় জনগণ এখনো তাঁকে পূজা করেন তাঁদের একজন মহাজ্ঞানী ধর্মগুরু রূপে । এই মহান অতীশের আশীর্বাদে ধন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সম্মানিত ১৪ তম দালাই লামা সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত, যা বাংলাদেশের গৌরব। হাজার বছর পরে অতীশের পুণ্যময় দেহভষ্ম চীন হতে এনে বর্তমানে সংরক্ষিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে । এমনকি, এক প্রসস্ত সড়ক ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় মহান অতীশের নাম বহন করছে বাংলাদেশে। আপনরা জানেন, পৃথিবীর যে কোন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যা লঘুদের জীবন সমস্যাবহুল হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে তাঁরা শান্তির উৎস দেখতে পান । পার্বত্য বৌদ্ধ প্রধান বাবু সন্তু লারমার সাথে তাঁর সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি ভালো সম্পর্কের পরিচায়ক । রাজধানী ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে এক বৃহৎ বুদ্ধমূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন তিনি অতি সম্প্রতি। থাই রাজ পরিবার প্রদত্ত এই রূপ ৮৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বিশাল শান্তির প্রতীক এই দেশে প্রথম। ইংরেজি সংবাদ ‘THE DAILY STAR’ এ দেখি- “প্রধানমন্ত্রী আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, মানুষের কল্যাণ সাধন সব ধর্মের মূল কথা । তিনি বাংলাদেশ হতে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রতা দূর করার প্রতিজ্ঞা পুন: ব্যক্ত করে নিশ্চয়তা দেন বাংলাদেশে সব লোকের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ অবস্থানে সাংবিধানিক অধিকারের, যেখানে নিরপেক্ষ এক সমাজে সব ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ মর্যাদায় ও স্বাধীনভাবে অবস্থানের অধিকার সংরক্ষিত। বাংলাদেশে বসবাসে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তা দেন তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে অতীশ দীপংকর শান্তি স্বর্ণ পদক ও বিশুদ্ধানন্দ স্বর্ণ পদক উপহার দেন”। বাংলাদেশে খ্রীষ্টপূর্ব ছয় শতক হতে খ্রীষ্টপূর্ব তিন শতকে মূল বৌদ্ধ ধর্ম বিদ্যমান ছিল । তবে শক্তিশালী রাজন্যবর্গ কিংবা ধর্ম প্রচারকদের প্রভাবে সময়ে সময়ে বাঙ্গালী বৌদ্ধ ধর্মের বাহ্যিক পরিবর্তন আসে । তবে তা ছিল সাধা চিনি কালো করার মতো আবরনের রং পরিবর্তন মাত্র, যেখানে আসল রূপ চিনির মিষ্টি স্বাদের তেমন ক্ষতি দখি না । তারা তো কখনো সক্ষম হয়নি পরিবর্তনে এই ধর্মের মহাশান্তির উৎস-মানবিক স্বাধীনতার চিরন্তনী আবেদন। এই ধর্মে নিবেদিত মধ্যপথের মূল আবেদন হলো সুখ-শান্তি ও সম্প্রীতি । এই সত্যটি শান্তিকামী জ্ঞানী মাত্রেই সুবিদিত । ইহা বাংলা সংস্কৃতি ও সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ । বৌদ্ধ ভিক্ষুদের রচিত ‘চর্যাপদ’-এ প্রকাশিত হয় এই রূপ শান্তির বাণী, যেখানে নিহিত আছে মনোরম মাতৃভাষা বাংলার মূল শিকড়। বাংলাদেশের বৌদ্ধেরা দেশে-বিদেশে শান্ত প্রিয় ও শান্তিকামী রূপে পরিচিত। এই দেশের বহু কেন্দ্রে বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা ও চর্চা হয়, যা মনের উৎকর্ষ সাধনে, চিত্তে শান্তি বা স্থিরতা আনায়নে, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও স্বাক্ষরতা বৃদ্ধিতে কিংবা দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা করছে । এই সব তো বৌদ্ধদের কাছে শান্তি-সুখের উৎস। বর্তমান বিশ্বে তথাগত বুদ্ধের শান্তির বাণী গভীর প্রেরণা দায়ক, বিশেষত যখন শান্তিকামী মানুষ ধর্মীয় উগ্রবাদের জটিলতায় ভোগছে, যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন ঐতিহ্য বিশ্বাসীদের উপর । বাংলাদেশী বৌদ্ধ ধর্ম গভীর প্রেরণা জাগায় শান্তির স্থাপনে দেশে-বিদেশে বিশেষত- ভারতের বিভিন্ন অংশ, আমেরিকা ও ক্যানাডায় । বাংলাদেশী আমেরিকান বৌদ্ধেরা প্রধানত ভিক্ষু সংঘ অনুমোদিত ‘বোধি মিশন’ বাংলাদেশী আমেরিকান বৌদ্ধদের ধর্মদান ও মানসিক বিকাশে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে এই মহান শান্তির বাণী পৌঁছাতে আমরা সক্ষম আমাদের নূতন ছয়টি বিহারের (California (Long Beach & San Bernardino), Detroit, New York and Virginia) মাধ্যমে। আমাদের ধর্ম সেবায় এবং মুক্তি, সহনশীলতা ও শান্তির নামে মহান বুদ্ধের প্রাচীন শিক্ষায় ঐতিহ্য বিশ্বাসী নির্বিশেষে আমি সকলকে অংশ গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা প্রত্যেকে শান্তি ও সুখ লাভ করুন ( সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু )

Statement given by Ven. Dr. Karunananda, founder of BODHIMISSION at United Nations General Assembly, New York, May 16, 2011 on the commemoration of the Buddha’s 2600th Supreme enlightenment Anniversary.

California Bodhi Vihara 1023 E 21st Street,Long Beach,CA-90806,U.S.A Tel & Fax: 562-218-8160,Email: [email protected]